নিজস্ব প্রতিবেদক | দেশ দর্পণ বিডি ডট কম
রাজশাহী, বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৫)
প্রায় ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি কেন্দ্রে ও ৯৯০টি বুথে।
এ নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে ভোট দিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন কেন্দ্রে।
🔹 ভোটার ও প্রার্থী সংখ্যা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটার আজ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭,৫৯৬ জন, নারী ভোটার ১১,৩০৫ জন।
রাকসুর ২৩টি কেন্দ্রীয় পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এছাড়া সিনেট ছাত্র প্রতিনিধিত্বের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী এবং ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
🔹 নির্বাচনী নিরাপত্তা
রাকসু নির্বাচনে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২,০০০ পুলিশ সদস্য, ১২ প্লাটুন র্যাব এবং ৬ প্লাটুন বিজিবি।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, রাখা হয়েছে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, এবং গঠন করা হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘থ্রি-ডাইমেনশনাল সিকিউরিটি সিস্টেম’ চালু রয়েছে— যেখানে প্রতিটি ভোটারের আইডি কার্ড যাচাই, ইউনিক আইডি মিলানো এবং QR কোড স্ক্যানিং করা হচ্ছে।
🔹 প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন,“রাকসু নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক আয়োজন। শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে—এটাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের গর্ব।”
তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
🔹 শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্র ও শিক্ষার্থীদের অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাচ্ছেন।
একজন শিক্ষার্থী বলেন,“আমরা চাই, রাকসু আবার শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হোক। ভোট দিতে পারাটা আমাদের গর্বের বিষয়।”
🔹 ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। এরপর নানা কারণে নির্বাচন বন্ধ থাকে। দীর্ঘ বিরতির পর আজকের এই ভোট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবি: বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
সম্পাদনা: দেশ দর্পণ বিডি ডেস্ক
উৎস: প্রথম আলো, ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন

