ঢাকা, ১ জানুয়ারি:
তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করে অন্তর্বর্তী সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ
সংশোধিত অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের ইমার্জিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
পাবলিক প্লেসে ধূমপানে জরিমানা বৃদ্ধি
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দেশের সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। আগে এই জরিমানার পরিমাণ ছিল মাত্র ৩০০ টাকা।
সব মাধ্যমে তামাক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন এবং তামাক পণ্যের প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া, তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা গ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ১০০ মিটারের মধ্যে বিক্রি নিষেধ
শিশু ও তরুণদের সুরক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের আশপাশে ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিড়ি উৎপাদনেও নিষেধাজ্ঞা
অধ্যাদেশে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে Bidi Manufacture (Prohibition) Ordinance, 1975 বাতিল করে একটি একীভূত আইন কার্যকর করা হলো।
সরকারের মতে, এই সংশোধনী আইন জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

