নিরাপত্তা ইস্যু’ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর–বন্দর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে দলীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের চাপের মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
শুক্রবার বিকেলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা নগরের খানপুর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তল্লা এলাকায় অবস্থিত মাসুদুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান মডেল গ্রুপ ঘেরাও করেন। এ সময় তাঁরা তাঁকে নির্বাচনে ফেরার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তিনি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের সামনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ‘নিরাপত্তার শঙ্কা ও পারিবারিক চাপ’-এর কথা উল্লেখ করে মাসুদুজ্জামান আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তাঁর ওই সিদ্ধান্তে দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর কয়েক দিন ধরে তাঁকে নির্বাচনে ফেরাতে সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তাঁরা।
আজ শুক্রবার নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য শোকাবহ দিন। আমাদের এক ভাই ওসমান হাদি মারা গেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে শহীদি মর্যাদা দেন।’ তিনি ওসমান হাদির রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, যখন অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচনের বিপরীত পথে হাঁটছিল, তখন হাদি তরুণদের নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচনের পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন এবং নিজের জীবন দিয়ে জাতিকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
নিজের আগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়ে আমি আমার দল, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং স্থায়ী কমিটির নেতা–কর্মীদের কষ্ট দিয়েছি। এ জন্য আমি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এ সময় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আজ এই মঞ্চ থেকে আমি ঘোষণা দিচ্ছি—দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তার সঙ্গে একমত থাকব। আমি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছি এবং ইনশা আল্লাহ নির্বাচনে অংশ নেব।’
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আপনারাই আমার পরিবার, আপনারাই আমার নিরাপত্তা। নিরাপত্তা নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই। জীবন বাজি রেখে কাজ করব।’

