উচ্চ আদালতের রায়ে গাজীপুর-৬ সংসদীয় আসন বিলুপ্ত হওয়ার পর পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে গাজীপুরে বিশাল মশাল মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত এ মশাল মিছিলটি ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড বাজার ও বড় বাড়ি এলাকা প্রদক্ষিণ করে। টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী সরকার পরিবারের ঐক্যের প্রার্থী, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন সরকারের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, গাজীপুর-৬ আসন বিলুপ্তির ফলে গাজীপুর-২ আসনের ভোটার কাঠামো, ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এ আসনে প্রায় ৮ লাখ ভোটার রয়েছে, যার বড় অংশ টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকায় বসবাস করে। অথচ এই পরিবর্তিত বাস্তবতা উপেক্ষা করে পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন বহাল রাখা হলে তা দলীয়ভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা
‘ভোটার বাস্তবতা মানতে হবে’,
‘গাজীপুর-২ এ ন্যায্য মনোনয়ন চাই’,
‘ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে’
—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, টঙ্গী-কেন্দ্রিক নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং অতীতেও এখান থেকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এই ঐতিহাসিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা হলে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির বিজয় সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তারা অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গাজীপুরের বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে জেল-জুলুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেই মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
মশাল মিছিল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান ভোটার বাস্তবতা ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়ন করা হোক।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন গাছা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস খান।

