দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে কম্পন, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৫.৪
নিজস্ব প্রতিবেদক | সাতক্ষীরা-ঢাকা
সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে হওয়া এ কম্পনে রাজধানী ঢাকাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পনে অনেকে ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।
📊 কত ছিল ভূমিকম্পের মাত্রা?
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা European-Mediterranean Seismological Centre (ইএমএসসি) জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৪।
অন্যদিকে Google–এর অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৪.৯ উল্লেখ করেছে। দুই উৎসের তথ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও সংশ্লিষ্টরা এটিকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উৎপত্তিস্থল কোথায়?
সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল—
- খুলনা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে
- সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে
- ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে
তিনি বলেন, উৎপত্তিস্থল তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
গুগলের তথ্যমতে, কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে, ফলে ওই এলাকায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
🌍 কোথায় কোথায় কম্পন অনুভূত হয়?
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও—
- খুলনা
- যশোর
- বাগেরহাট
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য জেলা
পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের West Bengal রাজ্যের কিছু এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার Barasat এলাকায় ভূকম্পন টের পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
⚠️ ক্ষয়ক্ষতি ও সতর্কতা
ভূমিকম্পের সময় অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন থেকে দ্রুত বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন এলাকা থেকে কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য শেয়ার করা হয়।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফটারশক বা পরাঘাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা আপাতত নেই।

