ঢাকা | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এ বহিষ্কার অবধারিত ছিল বলে আগেই জানতেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর জানায় বিএনপি। একই দিন সকাল ১১টায় বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির এক বৈঠকে রুমিন ফারহানাসহ মোট ৯ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
‘এটা আমার জীবনের নতুন অধ্যায়’
বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানা বলেন,
“এটা আমার জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ও নতুন যাত্রা। বহিষ্কার আদেশ আসবে—এটা স্বাভাবিকই ছিল। তবে যেদিন তিনি (খালেদা জিয়া) চলে গেলেন, সেদিনই বহিষ্কার আদেশ আসাটাকে আমি আল্লাহর একটা ইশারা বলেই মনে করি। যিনি আমাকে রাজনীতিতে এনেছিলেন, যার ছায়ায় আমি ছিলাম—তিনি যেদিন চলে গেলেন, সেদিনই বিএনপির সঙ্গে আমার যাত্রাও শেষ হলো।”
শোকের দিনে বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনেই দলীয় বৈঠক ও বহিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন,
“মৃত্যুর একটি ভাবগাম্ভীর্য থাকে—তা বাঙালি সংস্কৃতি হোক বা পশ্চিমা সংস্কৃতি। সাধারণত এমন দিনে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ও বহিষ্কার আদেশ—বাংলাদেশের মানুষ এটাকে কীভাবে নেবে, জানি না।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াই
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের চাওয়ার কারণেই এককভাবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার ভাষায়,
“রাজনীতিতে এমপি বা মন্ত্রী হওয়া একেকটা ঘটনা। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা অনেক বড় ব্যাপার। আমি একজন রাজনীতিবিদ হতে চাই।”
রুমিন ফারহানা দাবি করেন, গত ১০ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন তিনি। তবে এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনাইদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি
পেশায় আইনজীবী রুমিন ফারহানা ২০১২ সালে বাবা অলি আহাদ–এর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। যদিও তার বাবা রাজনীতিবিদ ছিলেন, তবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের আন্দোলনের সময় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির পক্ষে গণমাধ্যমে সরব ও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

