১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে মায়ের শয্যাপাশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
ঢাকা | দেশ দর্পণ
দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করেন।
এর আগে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান।
👥 শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে হাসপাতালে প্রবেশ
হাসপাতালে প্রবেশের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. জাহিদ হোসেনসহ দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রধানের দেশে ফেরায় হাসপাতাল এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
🛑 গণসংবর্ধনা শেষে হাসপাতালে যাত্রা
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরে ২৭ নভেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়।
🏠 হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে যাবেন তারেক রহমান
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তারেক রহমান গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে যাবেন বলে জানা গেছে। সেখানেই তিনি পরিবারসহ অবস্থান করবেন। এর পাশেই অবস্থিত ‘ফিরোজা’, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন।
🗣️ গণসংবর্ধনায় তারেক রহমানের বক্তব্য
পূর্বাচলের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন—
“যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা শান্তি চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন—
“১৯৭১ সালে যেমন এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালেও দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। এখন সময় এসেছে আবার সবাই মিলে কাজ করার।”
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
🇧🇩 নিরাপদ বাংলাদেশের অঙ্গীকার
তারেক রহমান বলেন—
“এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই আছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে নারী, পুরুষ, শিশু সবাই নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে।”
মাটিতে পা রেখে আবেগঘন মুহূর্ত
বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে একমুঠো মাটি তুলে নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেককে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।
✈️ বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা
তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করে নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন—
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
আব্দুল মঈন খান
নজরুল ইসলাম খান
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
সেলিমা রহমান
সালাহউদ্দিন আহমদ
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে তারেক রহমান পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে যান।

