গাজীপুরের টঙ্গী মিলগেট এলাকায় হামীম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে ইউনিট–৩ এ কর্মরত অর্ধশতাধিক শ্রমিক একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, কাজ চলাকালীন হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমিভাব, শ্বাসকষ্ট এবং দুর্বলতা অনুভব করতে থাকে। কয়েকজন অচেতন হয়ে গেলে সহকর্মীরা দ্রুত তাদের কারখানা চত্বর থেকে বের করে চিকিৎসার জন্য নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ৮–১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যায়। এতে কারখানা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল এবং নিকটস্থ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, বেশিরভাগ শ্রমিক মাথা ঘোরা ও মানসিক আতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে কয়েকজনের অবস্থা তুলনামূলক জটিল ছিল এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও গাজীপুর–৬ আসনের এমপি প্রার্থী রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু দ্রুত হাসপাতালগুলোতে ছুটে যান। তিনি আহত শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। শ্রমিকদের স্বজনদেরও সান্ত্বনা দিয়ে তিনি জানান—
“শ্রমিকরাই এই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। যতক্ষণ একজন শ্রমিকও হাসপাতালে আছে, আমি তাদের পাশে থাকব।”
রাকিব উদ্দিন পাপ্পুর উপস্থিতিতে শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা স্বস্তির কথা জানান। তারা বলেন, বড় ধরনের বিপদের সময় জনপ্রতিনিধির মতো ছুটে যাওয়াটা মানবিকতার বড় উদাহরণ।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রমিকরা যাতে বিশ্রাম নিতে পারেন, তাই আগামীকাল কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, শ্রমিকদের অসুস্থতার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—হঠাৎ মানসিক চাপ, আশপাশের কোনো দুর্গন্ধ, অথবা গুজব-সৃষ্ট আতঙ্ক এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। টঙ্গী পূর্ব থানার এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কোনো ধরনের গ্যাস লিকেজ বা খাবারের দূষণের মতো বিষয় আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিমও যুক্ত হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকে শ্রমিক নিরাপত্তায় আরও কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন। শ্রমিক নেতারা বলেন, কারখানায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়ক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।
হামীম গ্রুপ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক এখানে কাজ করেন। তাই একসঙ্গে এত শ্রমিকের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের দাবি, আতঙ্ক-ভিত্তিক অসুস্থতা হলে প্রচুর পানি পান, বিশ্রাম এবং মানসিক স্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় শ্রমিকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার উৎস চিহ্নিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
এদিকে রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু বলেন—
“শ্রমিকদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আমি সবসময় কাজ করে যাব।”

