৮০০
ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. সারাদেশ
  2. আমাদের সম্পর্কে
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প : সারাদেশে নিহত ১০, আহত শতাধিক

দেশ-দর্পণ
নভেম্বর ২২, ২০২৫ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
শেয়ার:
Link Copied!

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭, যা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানীর অদূরে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলা।

ভূমিকম্পটি কেন নরসিংদী এলাকায় উৎপন্ন হলো—তা নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ দিয়েছেন। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল, কারণ দেশটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত—ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেট। গবেষণাটি পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির দুই গবেষক—মাইকেল স্টেকলার ও লিওনার্দো সিবার। এ কাজে বাংলাদেশের কয়েকজন গবেষকও যুক্ত ছিলেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভারতের প্লেটের গভীরে ‘রিভার্স ফল্টিং’-এর কারণে এ ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। ভূতত্ত্ব অনুসারে, রিভার্স ফল্ট হলো এমন এক ধরনের ডিপ-স্লিপ ফল্ট যেখানে প্রচণ্ড চাপের ফলে দুটি শিলা ব্লকের মধ্যে স্থানচ্যুতি ঘটে এবং একটি ব্লক ওপরের দিকে উঠে যায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, বাংলাদেশে অন্তত পাঁচটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী–কক্সবাজার এবং নোয়াখালী–সিলেট ফল্ট লাইন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নোয়াখালী–সিলেট ফল্ট লাইন থেকেই শুক্রবারের ভূমিকম্পটি উৎপত্তি হয়েছে।

গত মার্চে ভারতীয় প্লেট সীমান্তবর্তী মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, সেটি ছিল ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’-এর কারণে, যেখানে দুটি প্লেট আড়াআড়ি দিক থেকে পরস্পরের পাশ ঘেঁষে সরতে থাকে।

এদিকে শুক্রবারের ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও স্থাপনা হেলে পড়া, দেয়াল ভাঙা ও অন্যান্য কাঠামোগত ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। সারাদেশে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ শতাধিকের বেশি মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাড়ে চার শতাধিক আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

দেশ-দর্পণ (Desh-Darpon) একটি স্বাধীন অনলাইন নিউজ মিডিয়া। আমরা নিজেরা নিউজ তৈরি করি এবং পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য নিউজ মিডিয়া ও তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত খবর যথাযথ উৎস উল্লেখ করে প্রচার করি। এই সাইটে প্রকাশিত সব সংবাদ, তথ্য, ছবি ও ভিডিও © দেশ-দর্পণ দ্বারা রক্ষিত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কনটেন্ট অংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ করতে পারবে না। যদি আপনার কাছে এই সাইটের কোন নিউজ বা তথ্য নিয়ে অভিযোগ, সংশোধনী বা অন্যান্য প্রস্তাব থাকে, অনুগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।