আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই চূড়ান্ত করবে বিএনপি। এ লক্ষ্যে বুধ ও বৃহস্পতিবার শরিক দল ও জোটের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বসবে দলটি। ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে সমমনা দলগুলোর নেতাদের এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচনার ভিত্তিতে বেশ কিছু আসনে শরিক দলগুলোকে ছাড় দিতে প্রস্তুত বিএনপি। তবে কতটি আসনে ছাড় দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে যুগপৎ আন্দোলনের সহযোগীদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে— এমন প্রতিশ্রুতিও সমমনা নেতাদের দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুগপৎ আন্দোলনের ২৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপির আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী ও সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বিবেচনায় নিয়ে বিজয়ী হওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থীদের জন্য আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু আসন ছাড়লেই হবে না, শরিকদের জিতিয়ে আনাও লক্ষ্য। যেসব জ্যেষ্ঠ নেতার নির্বাচনী মাঠে জয়ের সম্ভাবনা কম, তাদের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত করার কথাও আলোচনায় এসেছে।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আসন সমঝোতা ছাড়াও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, আসন ছাড়ের বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার আশ্বাস দিয়েছে। জটিলতা নিরসনে দল ও জোটের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,
“আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে—এই নির্বাচন এবং নির্বাচনের পরে সব দলকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করব।”
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আসন সমঝোতার বিষয়টি মীমাংসা হবে।
১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার আসন নিয়ে আলোচনা হবে এবং সৃষ্ট দ্বন্দ্বের সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। পরদিন মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার নাম স্থগিত করা হয়। এরপর ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত বিএনপি মোট ২৭২টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। বাকি ২৮টি আসনের তালিকা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
তবে জোট নেতাদের অভিযোগ, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। বৈঠকে তারা অবমূল্যায়ন ও অবজ্ঞার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমেই আসন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আসন ছাড়ের বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে।

