
ধর্ম ডেস্ক | দেশদর্পণ অনলাইন
আজ পবিত্র আশুরা। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।
‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘দশ’। মহররম মাসের দশম দিন হওয়ায় এ দিনকে ‘ইয়াওমে আশুরা’ বলা হয়। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক হিসেবে পরিচিত।
হাদিসে বর্ণিত আছে, মহান আল্লাহ তাআলা এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেন। এ উপলক্ষে হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে রোজা রাখতেন। পরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবিদের এ রোজা পালনে উৎসাহিত করেন। তিনি ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
আশুরার সঙ্গে মুসলিম ইতিহাসের আরেকটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা জড়িয়ে আছে। ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.), তাঁর পরিবার ও সঙ্গীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ আজও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ঈমানের দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।
পবিত্র আশুরা আমাদের শিক্ষা দেয়—সত্যের পথে অটল থাকা, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা, ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা।
আজকের এই পবিত্র দিনে মুসলিম উম্মাহ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নফল ইবাদত, দোয়া, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং রোজা পালনের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করছেন।
পবিত্র আশুরার শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, ধৈর্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আমাদের অনুপ্রাণিত করুক। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন।