ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস (২৮) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে র্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার রাতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকা থেকে আশিকুর রহমান (২৫) ও কাইয়ুম (২৫) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় এর আগে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার ভালুকা আমলি আদালতে ওই রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা আদালত পরিদর্শক (ওসি) পীরজাদা শেখ মো. মোস্তাছিনুর রহমান।
যেভাবে ঘটে ঘটনাটি
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার ‘পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড’ কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দেয়। পরে তার মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরিবারের দাবি
নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাস ও বোন চম্পা দাস অভিযোগ করে বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে দিপুর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। তাদের দাবি, দিপু একজন শিক্ষিত ও সচেতন যুবক ছিলেন এবং তিনি এ ধরনের কোনো কাজ করতে পারেন না।
পুলিশ যা বলছে
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অপরাধ করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কেন ওই যুবককে পুলিশের হাতে না দিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ওই পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

