রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার-কে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের মোস্তাক সরকার জানান, গ্রেপ্তারের পর এখনো অভিযুক্তকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ এর সেকশন বি ব্লকের একটি বাসার তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার পর শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয় শৌচাগার থেকে এবং শরীরের বাকি অংশ খাটের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সোহেল রানা পেশায় রিকশার মেকানিক। প্রায় দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। ঘটনার পর শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যমতে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিল।
স্বজনরা জানান, সকালে বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। হঠাৎ তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দরজার বাইরে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পরও সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো মিরপুর এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

