১৯ নভেম্বর ২০২৫
দেশ-দর্পণ নিউজ
সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের মাঠের কর্মকাণ্ড এখন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। বিশেষ করে মনোনয়নবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘোষিত প্রার্থীদের আচরণ—এই বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। তৃণমূলে ঐক্য গঠনে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঘোষিত আসনগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধ দেখা গেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের তদন্তে উঠে এসেছে যে, বেশ কয়েকটি আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। প্রার্থী পুনর্মূল্যায়ন না হলে কিছু বঞ্চিত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা মিলেছে।
সূত্র বলছে, ঘোষিত ২৩৭ প্রার্থীর তালিকা ঘিরে নতুন করে একাধিক আসনে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ে অবস্থান নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনও আসতে পারে বলে বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে। তবে দলটি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,
“বিএনপির মতো বড় দলে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। বেশ কিছু আসনে যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন। হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খতিয়ে দেখছেন।”
এদিকে গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দলের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক পুলিশ প্রধানের ফাঁসির রায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মূল্যায়ন—দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়েছে। দলটির মতে, এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট প্রতিফলন।
বৈঠকে নেতারা আরও বলেন—আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ২০২৪ ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে নিহত সহস্রাধিক শহীদের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে বলে তাদের বিশ্বাস।