নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জ্বালানি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, কিন্তু জ্বালানি নেই। বিপুল বকেয়ার মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। বসিয়ে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া দিতে হচ্ছে।” তিনি জানান, সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে এবং পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার (২০০১–২০০৬) লোডশেডিং রেখে গেছে ঠিক, কিন্তু জনগণের মাথার ওপর ঋণের দায় চাপায়নি। এখন বাতি জ্বলে, কিন্তু জাতি ঋণের দায়ে ডুবে যাচ্ছে। ঋণের দায় নেওয়ার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো।”
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার এখন বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় না। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাপ দিতে পারে। তাই পরিস্থিতি তৈরির আগেই খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো নিয়ে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির সময় সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। সিস্টেম লস কমানো গেলে দাম না বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
চলমান গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়, বরং গ্যাসের ঘাটতির কারণে হচ্ছে। অতীতে পর্যাপ্ত কূপ খনন ও উৎপাদন না বাড়ানোর কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “চাইলেই রাতারাতি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়; সময় দিতে হবে।”
এর আগে জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এফইআরবি)-এর নতুন নির্বাহী কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নিজের মতামত তুলে ধরেন মন্ত্রী।