ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য জোরালো সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে তাঁর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি সম্পূর্ণ বাতিল বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ ও আবেদন থেকে শুরু তদন্ত
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে অসংগতি, কারচুপি এবং অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন জিএস প্রার্থী রাশেদ খান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ। আবেদনে নির্বাচনে অনিয়ম, অবৈধ প্রার্থিতা বাতিল ও ভুক্তভোগীদের পুনর্মূল্যায়নের দাবি তোলা হয়।
নির্বাচনে নানামুখী অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ
একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে জানানো হয়—
২০১৯ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার বাধা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ব্যালট দখল, কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জাল ভোট–সহ একাধিক কারচুপির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন বলে কাউন্সিল মনে করছে।
এমফিল ভর্তিতে অনিয়ম—ফলাফল: ভর্তি বাতিল
তদন্ত কমিটির প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে উঠে আসে, অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বানী, মেহজাবিন হক এবং ফাহমিদা তাসনিম যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করেই এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
তাই আইনগতভাবে তাঁদের ভর্তি অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।
এই কারণে গোলাম রাব্বানীর বৈধ ছাত্রত্ব না থাকায় ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতাও বৈধ ছিল না, এমন মত দিয়েছে কাউন্সিল।
জিএস পদকে কেন অবৈধ বলছে কমিটি
ভর্তি বাতিল হওয়ায় তাঁর ছাত্রত্বও শূন্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অতএব, বৈধ ছাত্রত্ব ছাড়া রাব্বানীর জিএস পদে নির্বাচিত হওয়া ‘আইনসিদ্ধ নয়’—এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তদন্ত কমিটি।
রাশেদ খানের প্রতিক্রিয়া
২০১৯ সালে জিএস পদে রাব্বানীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০,৪৮৪। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ খান পান ৬,০৬৩ ভোট।
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন—
“আলহামদুলিল্লাহ, ঢাবির সিদ্ধান্তে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানীর এমফিল ভর্তি চূড়ান্তভাবে বাতিল। ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় তার ডাকসু পদও অবৈধ। ২০১৯ সাল থেকে যে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছি, ২০২৫ সালে এসে তার ফল পেলাম। ধন্যবাদ ঢাবি প্রশাসন।”