দেশ-দর্পণ প্রতিবেদক
রাজধানীর দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে থাকা দুটি লকার ভেঙে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের অনুমতি নিয়ে লকার দুটি খোলা হয়। এতে মোট ৮৩২ ভরি স্বর্ণ পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, লকার নম্বর ৭৫১ ও ৭৫৩—দুটি লকারই শেখ হাসিনার নামে ছিল। লকার ভাঙার সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিনিধি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সিআইসির কর্মকর্তারা এবং অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা জানান, স্বর্ণ ছাড়াও আরও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা মূল্যবান সামগ্রী থাকতে পারে। এ বিষয়ে দুদক বুধবার বিস্তারিত জানাতে পারে।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর লকার দুটি জব্দ করে সিআইসি। তদন্তের অংশ হিসেবে পূবালী ব্যাংকের মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় শেখ হাসিনার আরেকটি লকার—নম্বর ১২৮—জব্দ করা হয়। সেই শাখায় তাঁর দুটি হিসাবেও ৫৬ লাখ টাকা পাওয়া যায়। যার মধ্যে ১২ লাখ টাকা এফডিআর, বাকি ৪৪ লাখ টাকা সঞ্চয়ী হিসাবে ছিল। এগুলোও এনবিআরের নির্দেশে জব্দ করা হয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “লকার ভাঙার বিষয়টি অবহিত আছি। তবে ভেতরে কী পাওয়া গেছে সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানি না।”
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যান। এর পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য ও তাঁর সময়ে সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি তদন্ত শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ১০ ব্যবসায়ী গ্রুপসহ সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ১১টি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।