টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
শিল্পনগরী টঙ্গীতে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৫ আগস্টের পর থেকে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২২টি সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টঙ্গীর পাগার এলাকায় উইন্ডি অ্যাপারেলসের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
ঝুট ব্যবসা নিয়ে ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব
জানা গেছে, টঙ্গীর কয়েকটি বড় শিল্প কারখানার এমডি বা চেয়ারম্যান পদে এখনও আওয়ামী লীগপন্থী নেতারা বহাল আছেন।
অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলের এমডি আওয়ামী লীগ নেতা হারুনুর রশিদ
নিউ মেঘনা টেক্সটাইল মিলের চেয়ারম্যান পুবাইল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আল মামুন
তৃণমূল বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, এই পদগুলোতে আওয়ামী লীগ নেতাদের বসানোর পেছনে বিএনপির ভেতরের একটি অংশের হাত রয়েছে।
তারা আরও বলেন, ঝুট ব্যবসার অর্থ বিদেশে থাকা আওয়ামী নেতাদের কাছে যাচ্ছে, যারা বিএনপির ভেতরে বিভাজন তৈরি করছে।
বহিষ্কৃত নেতাদের অভিযোগ
টঙ্গীতে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া চারটি মামলার একটিতেও তিন বিএনপি নেতা —রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, সিরাজুল ইসলাম সাথী ও হালিম মোল্লা — এর নাম নেই।তারপরও দল থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়। বাদীরাও স্বীকার করেছেন, তাঁদের নাম এজাহারে নেই।
রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু বলেন,“আওয়ামী লীগ মিথ্যা মামলায় আমাকে ১২ বছর ৩ মাস জেলে রেখেছিল। পরে আদালত আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করেন। আমি কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত নই। দল যেন ন্যায়বিচার করে, এই আশা রাখি।”
সিরাজুল ইসলাম সাথী বলেন,“১৬ বছর রাজনীতির মাঠে আছি, কিন্তু কোনো অনৈতিক কাজে কখনো জড়াইনি।”
হালিম মোল্লা বলেন,“আমার নামে মামলা হয়নি, তবুও বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, দল ন্যায়বিচার করবে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা কেন্দ্রিক একাধিক রাজনৈতিক গ্রুপ তৈরি হয়েছে।
এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।
এর ফলে এলাকায় বারবার সহিংসতা, মামলা ও দলীয় বিভাজনের ঘটনা ঘটছে।
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫
সংবাদদাতা: টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
সুত্র: দেশ দর্পণ বিডি