
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত Gazipur-2 আসনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জনের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি-কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে। গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা—শিল্পনগরীর টেকসই উন্নয়ন ও জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তাকে মন্ত্রী করা হোক।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রনি পেয়েছেন ১,৮৭,৫৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী নাসের খান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১,৩৮,৩৯২ ভোট। ৪৯,১৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে।
গত বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনের দিন রনি নিজ গ্রামের সালনা মাদ্রাসা কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ ভোটারের মতো ভোট প্রদান করেন।
বিজয়ের পর তিনি বলেন,
“এ বিজয় আমার একার নয়, গাজীপুরবাসীর। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। আমি সবার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করব—যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, সবার জন্য সমানভাবে উন্নয়নের রাজনীতি করব।”
তিনি গাজীপুরকে আধুনিক, উন্নত ও মাদকমুক্ত নগরীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—
বিজয়ের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া, পিতা-মাতার কবর জিয়ারত এবং নিজ হাতে বিলবোর্ড অপসারণের মধ্য দিয়ে তিনি ব্যতিক্রমী সূচনা করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও তরুণ ভোটারদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও গাজীপুর দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের সমস্যায় ভুগছে। মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।
রনির পিতা সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী M. A. Mannan-এর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকায় অবকাঠামো ও শিক্ষাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সেই ধারাবাহিকতায় রনির প্রতিও বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুরে বড় ব্যবধানে এ বিজয় স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্পসমৃদ্ধ এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে গাজীপুরবাসীর কণ্ঠে এখন একটিই প্রত্যাশা—
শিল্পনগরীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবনির্বাচিত এমপি রনিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হোক।