
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদুল ফিতরের পর থেকেই দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের বাজারে তদারকির ঘাটতির সুযোগে একাধিক প্রভাবশালী কোম্পানির সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সূত্র জানায়, রমজানের শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে ডিলারদের মাধ্যমে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সীমিত করে রাখা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে ২০৫ থেকে ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বোতলজাত তেল বাজারে সংকট তৈরি করে উধাও করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহে ঘাটতির কথা বললেও, বাজার সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এটিকে কৃত্রিম সংকট হিসেবে দেখছেন।
মুরগি ও মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি
ঈদের আগে যেখানে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৮০০ টাকা কেজিতে।
গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০–৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতে।
মাছের বাজারেও অস্বাভাবিক দাম
খুচরা বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ২৩০, রুই ৩৫০ এবং চিংড়ি ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
চাল ও ডালের দামও ঊর্ধ্বমুখী
স্বর্ণা চাল ৫৬–৫৮ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬৮ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
চাপে মধ্য ও নিম্নবিত্ত
দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সংসারের খরচ সামাল দিতে অনেকেই খাদ্য তালিকা কমিয়ে দিচ্ছেন। এমনকি শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচেও কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মালিবাগের এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, “আগে কোনোভাবে সংসার চালানো গেলেও এখন মাস শেষে ধার করতে হচ্ছে। মাংস খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।”
বিশেষজ্ঞ মতামত
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “ইরান যুদ্ধের অজুহাতে কেউ যাতে অবৈধভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে।”
সরকারের পদক্ষেপ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার:
সরবরাহ সংকট, সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং দুর্বল তদারকির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।